গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবসে শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকার—৬ ডিসেম্বরের বীর শহীদদের স্মরণে বিবৃতি

স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
অবিস্মরণীয় একটি দিন ৬ ডিসেম্বর। ১৯৯০ সালের এ দিনে রক্তাক্ত পিচ্ছিল সংগ্রামপথে অবসান হয়েছিল স্বৈরশাসনের। এর আগেই ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পেশাগত শপথ ভেঙে সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অস্ত্রের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অসাংবিধানিক শাসন জারি করেছিলেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে।
স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন—এরশাদের একনায়কতন্ত্র তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টানা নয় বছর আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে গড়ে তোলেন দুর্বার গণআন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার মিলিত শক্তিতে পরাজিত হয় স্বৈরাচার, মুক্ত হয় গণতন্ত্র।
অর্জিত গণতন্ত্রের সেই চেতনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আরেক হিংস্র ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে। ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিবাদী শক্তিরূপে পরিচিত আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু ছিল—তাদের শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালানো হয়। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে “গণতন্ত্রের মা” বেগম খালেদা জিয়ার ওপর জেল-জুলুমসহ নানা নির্যাতন চালানো হয়, যার অবিরাম চাপ আজ তাঁর জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছে। আল্লাহর কাছে তাঁর আশু রোগমুক্তি কামনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী শক্তির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ওপর চালানো হয়েছিল সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতন; সারাদেশকে পরিণত করা হয়েছিল এক বন্দিশিবিরে।
বিবৃতিতে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ স্মরণীয় দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সকল অংশগ্রহণকারী ও পুরো দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
শেষে গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান যেন আর কখনও না ঘটে—সে আহ্বান জানিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।