খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত; গুজব না ছড়ানোর আহ্বান চিকিৎসকদের

কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ত্রুটি, মেডিকেল বোর্ড বলল—এখনই বিদেশযাত্রা নিরাপদ নয়

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ৬ নভেম্বর ২০২৫,নিউজ চ্যানেল বিডি।

কাতারের আমিরের উদ্যোগে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, সেটির কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি আসতে পারেনি—এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জরুরি সভায় মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় এখনই তাঁর বিদেশযাত্রা নিরাপদ নয়। ফলে চিকিৎসার স্বার্থেই বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দেশনেত্রীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাগত সুরক্ষাকে। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। গত ছয় বছর ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা

বাংলাদেশ থেকে

প্রফেসর ড. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ড. এজেডএম সালেহ, ড. মাসুদ মাসুম কামাল, ড. জিয়াউল হক, ড. জাফর ইকবাল, ব্রিগেডিয়ার সাইফুল ইসলাম, ড. সিজান লুতফুল আজিজ, প্রফেসর একিউএম মহসিন, প্রফেসর ড. শামসুল আরেফিন, প্রধান চিকিৎসক ড. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, প্রফেসর ড. নুরুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

যুক্তরাজ্য থেকে

জন পেট্রিক কেনেডি, জেনিফার ক্রস, প্রফেসর গোলস্টন (লন্ডন ক্লিনিক), প্রফেসর রিচার্ড (কিংস কলেজ), শাকিল ফরিদ পেপোয়ারথ (ক্যামব্রিজ কার্ডিওলজি), প্রফেসর গার্বি (ভাল্ভুলার হার্ট ডিজিজ বিশেষজ্ঞ)।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে

প্রফেসর হাবিবুর রহমান লুলু, প্রফেসর জন হ্যাবিল্টন, প্রফেসর হামিদরাও, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জর্জিস।

চিকিৎসা সমন্বয়ের জন্য ডা. জুবায়দা রহমানও সার্বক্ষণিক যুক্ত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৈয়দ আশামেলা রহমান, শামীম ইস্কান্দারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিদিন চিকিৎসার সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে। একইভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদেরও অবহিত করা হচ্ছে।

গুজব না ছড়ানোর আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জনগণকে যাচাইকৃত তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিভ্রান্তি না ছড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রোগীর সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

দীর্ঘ ১২–১৪ ঘণ্টার উচ্চ-উচ্চতায় ফ্লাইট গুরুতর অসুস্থ রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ উপযুক্ত হলে তবেই বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কাতার সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। চিকিৎসার কারণে অন্য রোগী বা স্বজনেরা কেউ যদি অসুবিধায় পড়ে থাকেন, তাঁদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

সবশেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।