স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ চ্যানেল বিডিI
৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়—বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি। বরং এদেশের রাজনীতির অঙ্গনে বাইরে থেকে গুটি চালিয়ে নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দায় ঘৃণিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য ও দলিল ধীরে ধীরে সামনে আসছে, যা প্রমাণ করে—এই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল দিল্লিকেন্দ্রিক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাপ্রধানদের ইচ্ছায় আত্মসমর্পণের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। এই দুই দিনের ব্যবধানেই ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে খুঁজে খুঁজে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রথিতযশা সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, একটি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে কেন তার শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের হত্যা করা হলো? যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে যে চিন্তা, মেধা, সৃজনশীলতা ও ইনোভেশনের প্রয়োজন ছিল, তা বুদ্ধিজীবীদের কাছেই সবচেয়ে বেশি ছিল।
তার দাবি, ভারত স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নয়, বরং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। পাকিস্তানি শাসকদের দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার ফলে সৃষ্ট গণক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই তদানিন্তন ভারতীয় বাহিনী এই যুদ্ধে এগিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশ নামেই শুধু স্বাধীন হোক—লাল-সবুজ পতাকা, জাতীয় সংগীত থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি সবকিছুই দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে।
শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত জাতির আত্মপরিচয়ের সংকট কাটবে না এবং মিথ্যা দোষারোপের রাজনীতি ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।





