স্টাফ রিপোর্টার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী হিসেবে একত্রিত হয়েছেন। সমাবেশে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদির শরীরে গুলি লাগার মধ্য দিয়ে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো জুলাই বিপ্লব এবং বাংলাদেশই আক্রান্ত হয়েছে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশ যখনই আক্রান্ত হয়েছে, তখনই তরুণরা রাস্তায় নেমেছে। আজকের এই জমায়েতও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, নৈতিকভাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আর এই দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ই আগস্টের পরও দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের, শহীদ পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছে, মামলা বাণিজ্য হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। এসব ব্যর্থতার পরও আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে বহাল রয়েছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে এসব সংস্থা বিরোধী দল দমনে অত্যন্ত সক্রিয় ও দক্ষ ছিল। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর সেই দক্ষতা কোথায় হারিয়ে গেছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, ৭২ ঘণ্টা পার হলেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রমাণ করে কোথাও গভীর সংকট ও ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা রয়েছে, যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
আগামী ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, এটি শুধু উৎসবের দিন নয়, প্রতিরোধের ইতিহাস স্মরণ করার দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্য দিয়েই যেমন বিজয় এসেছে, তেমনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের যাত্রাও শুরু হয়েছিল। সেই প্রতিরোধ আজও অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকাল বিজয় দিবসে কোনো উৎসব নয়, বরং ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় প্রতিরোধ র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনে কারসাজির চিন্তা ভুল প্রমাণিত হবে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপস করা হবে না।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করা নির্বাচন কমিশনারের নৈতিকভাবে দায়িত্বে থাকার অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জুলাই বিপ্লবকে টার্গেট করে মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনাঙ্গনে যে রাজনীতি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।





