হত্যা ও সহিংসতার ঘটনাকে পরিকল্পিত নৈরাজ্যের ষড়যন্ত্র আখ্যা, ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান বিএনপির

শরীফ উসমান হাদির শাহাদাত, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য মির্জা ফখরুলের

স্টাফ রিপোর্টার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সহিংস ঘটনা প্রমাণ করে একটি চিহ্নিত পুরনো মহল দেশকে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যের পথে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল গভীর রাতে দৈনিক প্রথম আলো, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ-এর সম্পাদক, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ব্যক্তিত্ব বরেণ্য সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ছায়ানটসহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, উদীচীতে অগ্নিসংযোগ, খুলনায় এবং ভারতে ভারতের হাই কমিশনের কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা, চট্টগ্রামের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অগ্নিসংযোগ, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া, উত্তরা এলাকায় ৩২টি দোকান ভাঙচুর ও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাকে তিনি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। চট্টগ্রামে মহদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন ও বীর বাহাদুরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং রাজশাহীতে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের নাকের ডগায় এসব তৎপরতা চললেও সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি তুলেছে।

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিক হামলা ও সহিংসতা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। শান্তিকামী গণতান্ত্রিক দেশবাসীর পক্ষ থেকে তিনি এই ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।

বিএনপি মহাসচিব নৈরাজ্যবিরোধী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত হতে হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মঈন খান এবং ইকবাল হাসান মোহাম্মদ টুকু।