স্টাফ রিপোর্টার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী বলেছেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, -এর নেতৃত্বে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সূত্রাপুর থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে লালকুঠি, ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, কে এল জুবলী স্কুল, একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুসলিম স্কুল ভোটকেন্দ্র এলাকার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, জাতীয় পতাকা ও পরিচয় লাভ করে। এই অর্জন সহজে আসেনি। অথচ বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে দমন-পীড়ন, গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ২৪ জুলাই সংঘটিত গণহত্যায় ছাত্র-জনতা, নারী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিহত হন, যার সংখ্যা ১৪শ’রও বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, খুনি স্বৈরাচার বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যার নির্দেশসংক্রান্ত অডিও আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার হরণ করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রহসনের এসব নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ সেই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি আগেই ৬০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরেছিল। বর্তমানে চলমান সংস্কার কার্যক্রম সেই প্রস্তাবনারই ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ঢাকা-৬ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও সুশাসন খাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীতে বায়ু দূষণের কারণে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পরিবেশ উন্নয়ন করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে চাপ কমবে এবং জনগণ মানসম্মত চিকিৎসা পাবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় রূপান্তর করতে চায় না; বরং বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশকেই একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি -এর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বিএনপি আজও বিশ্বাস করে—রাষ্ট্র পরিচালনার মালিক জনগণ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চায় দলটি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি -র সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজী আবু তাহের, কামরুল মল্লিক, হারণ ঘোষ, বজলুর রহমান, বাদল সাহ, নীল কোমল সাহ, আজিজুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, কাজী আব্দুল কাইয়ূম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফয়েজ, রাম সাহ সুমন, মো. ফরিদ উদ্দীন ফরিদ, নাসিমুল গণি খান, সাদুজ্জামান ডায়মন্ডসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।





