স্টাফ রিপোর্টার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মহানগর উত্তরের -এর বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারে রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হতো না। কিন্তু সে প্রায়ই বলতো—আমার অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যেকোনো সময় আমাকে মেরে ফেলতে পারে।”
তিনি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর আনুমানিক রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে বাসায় ফোন আসে যে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালেও স্বামীকে জীবিত পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী বলেন, “ও খুব সাধারণ জীবনযাপন করতো। বাসা থেকে বের হলে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে আছে—এসব ফোনে বলতো না। শুধু প্রয়োজনীয় কথাই বলতো। শেষবার বিকেলে আসরের নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় আমাকে বলেছিল, একটা কফি বানিয়ে দিতে। সেটাই ছিল আমাদের শেষ কথা।”
তিনি আরও বলেন, “ও সবার জন্য কাজ করতো। কেউ ডাকলে কখনো না করতো না। হয়তো এটাই কারো ভালো লাগেনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ব্যবসায়িক শত্রু কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক থেকেই তদন্ত হওয়া দরকার।”
পরিবার ইতোমধ্যে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছে বলে জানান তিনি। তবে ফুটেজে কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। তার দাবি, “সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে, এখনো ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে—যদি বিচার না হয়।”
নিহতের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২০ সালে সে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। পরে নানা কারণে বিষয়টি স্থগিত ছিল। ঘটনার দুই-তিন দিন আগেও সে বলেছিল, স্থগিতাদেশ বেশি দিন থাকবে না। দল যেভাবে কাজ করতে বলবে, সেভাবেই কাজ করবে।”
তিন সন্তানের জননী এই নারী বলেন, “আমার বড় মেয়ে অনার্সে পড়ে, ছোট মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ছেলে এবার ক্লাস টেনে উঠেছে। আমি চাই না আর কোনো পরিবার আমার মতো এমন পরিস্থিতির শিকার হোক।”
তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।





