স্টাফ রিপোর্টার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
রাজধানী ঢাকায় (ডিএনসি) পৃথক দুটি অভিযানে ভেজাল মদ উৎপাদনকারী একটি চক্র এবং নতুন প্রজন্মের অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’-এর একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি উদ্ঘাটন করেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পুরান ঢাকার ওয়ারীতে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক, উৎপাদন উপকরণ উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভেজাল মদ উৎপাদন ও অবৈধ সরবরাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এসব অভিযান পরিচালনা করে।
১) বসুন্ধরার অ্যাপার্টমেন্টে ভেজাল মদের কারখানা
আবাসিক ফ্ল্যাটে গোপনে চলছিল উৎপাদন ও বোতলজাতকরণ
গত ৭ জানুয়ারি ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জোয়ার সাহারা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে একটি ভাড়াকৃত আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো উদ্ধার করা হয়। অভিযানে দুটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার, ভেজাল মদের কেমিক্যাল ও তরল ‘ওয়াশ’ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
বাসার ভেতরেই কারখানা
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষ ব্যবহার করে ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণ করা হতো। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাতের প্রস্তুতি ছিল। উদ্ধারকৃত মদ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ—এগুলো সেবনে তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়া, লিভার-কিডনি ক্ষতি ও মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।
আসামিদের পরিচয়
১) রিপন হিউবার্ট গমেজ (৪৮), গাজীপুর
২) আবদুর রাজ্জাক (৪০), ময়মনসিংহ
৩) ডেনিস ডমিনিক পিরিছ (৩৭), গাজীপুর
উদ্ধারকৃত আলামত
- বিদেশি মদ: ৭৯ বোতল
- বিয়ার: ১৬৬ ক্যান
- ভেজাল মদের কেমিক্যাল: ১৩২ লিটার
যেভাবে ভেজাল মদ তৈরি হতো
তদন্তে জানা যায়, ভারত থেকে অবৈধভাবে সংগৃহীত মদের ওপর রাসায়নিক “টিউনিং” করে রং, গন্ধ ও মাত্রা পরিবর্তন করা হতো। কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় এসব ভেজাল মদ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক।

২) ওয়ারীর বাসায় ‘কুশ’ ল্যাব
বিদেশে বসে দূরনিয়ন্ত্রণে চলছিল আধুনিক মাদক উৎপাদন
বিদেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর একটি কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে একজন নারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঢাকার ওয়ারীতে একটি বাসায় ‘কুশ’ উৎপাদনের ল্যাবের তথ্য।
এরপর ওয়ারীর একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ল্যাবটির মূল পরিকল্পনাকারী একজন প্রবাসী যুবক—যিনি বিদেশে অবস্থান করেও ইন্টারনেটনির্ভর দূরনিয়ন্ত্রিত ডিভাইসের মাধ্যমে আলো, তাপমাত্রা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতেন।
আসামিদের পরিচয়
১) মোঃ রাজু শেখ (৩৯), রাজবাড়ী
২) সুমেহরা তাসনিয়া ওরফে তাসনিয়া হাসান (২০), ঢাকা
৩) মোঃ তৌসিফ হাসান (২২), পলাতক
উদ্ধারকৃত আলামত
- ল্যাবে চাষকৃত ও অঙ্কুরিত কুশ প্ল্যান্ট
- কুশ চাষের সরঞ্জাম
- সদ্য হারভেস্টকৃত কুশ: ২০ গ্রাম
- কুশ বীজ ও ক্যানাবিনয়েড রেজিন
- সীসা ১৫০ গ্রাম ও সেবনের সরঞ্জাম
- বিভিন্ন বিদেশি মদ
- ইয়াবা: ৪২ পিস
মামলা ও তদন্ত
এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





