স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ইরানের সরকার ব্যাপক বিক্ষোভ ও দাঙ্গার মুখে ক্রমবর্ধমান চাপে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে আঘাত হানার বাস্তবতা বিবেচনা করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিবেচনাধীন ‘একাধিক বিকল্পের’ মধ্যে বিমান হামলাও রয়েছে।
আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য আঘাত হানার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “কূটনীতি সবসময়ই প্রথম বিকল্প। তবে সামরিক হামলার পরিকল্পনাও বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় সব বিকল্প খোলা রাখেন। “কমান্ডার ইন চিফের জন্য টেবিলে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, আর বিমান হামলা এগুলোর একটি হতে পারে।”
সম্প্রতি ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী দমনপীড়নে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে আরও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তার প্রশাসন।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করার এবং তুলনামূলক কম কঠোর বিকল্প বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে এবং এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।





