সমুদ্র সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য সুরক্ষায় সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিদার সমঝোতা স্মারক

টেকসই ব্লু ইকোনমি গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় টেকসই ব্লু ইকোনমি গঠনের লক্ষ্যে জাপানের স্বনামধন্য Sasakawa Peace Foundation (এসপিএফ)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ওপিআরআই)-এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মিতসুতাকু মাকিনো। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থেকে চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি অনুমোদন করবেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওপিআরআই-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম এবং মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের সমুদ্র একটি বিশাল সম্পদ হলেও ক্রমেই তা দূষিত হচ্ছে। কয়েক হাজার মিটার গভীর সমুদ্রেও প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই এমওইউ আমাদের সমুদ্র পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন সামুদ্রিক গবেষণায় বিশ্বব্যাপী সম্মানিত একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই গবেষণা আরও বিস্তৃত হবে।”

এমওইউ অনুযায়ী, মহেশখালীতে ‘উমিগিও’ (সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন) ধারণার আলোকে তিনটি গ্রামকে মডেল মৎস্য গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে মিডাকে সহায়তা করবে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে মিডা, ২০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে নির্ধারিত জাতীয় অগ্রাধিকারের আলোকে সামুদ্রিক মৎস্য ও সামুদ্রিক বিষয়ক উন্নয়নে এসপিএফ-এর সঙ্গে কাজ করবে।

এই সহযোগিতার আওতায় জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল অনুসরণ করে মেরিকালচার, মৎস্য, ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জেলে সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সমন্বিত উপকূলীয় জীবিকা, সমুদ্রে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জেলে সম্প্রদায় ও সরকারের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও কাজ করা হবে।

এছাড়া মৎস্য সম্পদ ও উপকূলীয় পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে বেসলাইন স্টাডি, জেটি নির্মাণ, আধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার, কোল্ডচেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহযোগিতা থাকবে।

ওপিআরআই প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মিতসুতাকু মাকিনো বলেন, “এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে টেকসই ও সমন্বিত ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ। বিশেষ করে মৎস্য খাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “মিডা প্রাচীন উপকূলীয় জীবিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।”

এই এমওইউ স্বাক্ষর হয় ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপের ফাঁকে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ১৩–১৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সংলাপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।