স্টাফ রিপোর্টার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্বর্ণালীর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বলছেন, তিনি স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন এবং সাদ্দাম জেলে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
সাদ্দামের ছোট ভাই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তার ভাবি সাদ্দামকে জেল থেকে বের করতে না পারায় হতাশায় ছিলেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার স্বর্ণালীর ভাই তাকে ২০০ টাকা দিয়ে যান, পরে শুক্রবার দুপুরে সেই টাকা আবার পাঠিয়ে দেন স্বর্ণালী। এরপর ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় তখনই ঘটনাটি ঘটে বলে তাদের ধারণা।
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, স্বর্ণালী প্রায়ই বলতেন, “আপনার ভাই কি ছাড়া পাবে না?” এবং বিভিন্নজন তাকে বলত, সাদ্দাম কখনোই ছাড়া পাবে না। এমনকি কেউ কেউ বলেছে, ছাড়া পেলেও “ভাইরাল” হওয়ায় তাকে মেরে ফেলবে। এসব কথা শুনে স্বর্ণালী আরও ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তিনি বলেন, চারবার জামিন হলেও নতুন মামলায় আবার জেলগেট থেকে নেওয়া হয় এবং সাদ্দামের নামে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় স্বর্ণালীর বাবা জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন বাদী হয়ে শনিবার বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, তিনি গিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন এবং ঘটনাস্থলে তখন শত শত লোক উপস্থিত ছিল। পরে নাতির মৃত্যুর খবর পান। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে, কিন্তু নাতিটা কীভাবে মারা গেল?” বিষয়টি তদন্ত করে সত্য বের করার দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে রোববার (২৫ জানুয়ারি) কারা কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, সময় স্বল্পতার কারণে তারা প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে কারাগার ফটকে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিবারের মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।





