স্টাফ রিপোর্টার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ নিউজ চ্যানেল বিডি
চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতা আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্থায়ী ভাগ্য পরিবর্তনে বিশেষ ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
তিস্তা নদীর পাড়ে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। তার প্রস্তাবনায় রয়েছে নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর গতিপথ ঠিক রাখা, পাড় সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং তিস্তাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় উজানে ভারতের বাঁধ হঠাৎ খুলে দেওয়ার কারণে দেশের কৃষক ও নদীপাড়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ পরিস্থিতি এড়াতে বাঁধ খোলার অন্তত তিন দিন আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এতে কৃষকরা আগাম ফসল তুলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
তিস্তার পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন আক্তার হোসেন।
কৃষকদের সুরক্ষায় বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর শস্য ও সবজি উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। এ জন্য সরকারি কোল্ড স্টোরেজ ও ফুড প্রসেসিং কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া বীজ সংরক্ষণাগার ও সার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষকদের সার ও উন্নত মানের বীজ সংকট নিরসনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রান্তিক কৃষকদের হয়রানি কমাতে এবং উৎপাদন বাড়াতে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা।





