জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রথম রায়: আশুলিয়া হত্যাকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

৭ জনের যাবজ্জীবন, ২ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড; এপ্রুভারকে ক্ষমা—ঐতিহাসিক দিন বলে মন্তব্য প্রসিকিউশনের


স্টাফ রিপোর্টার | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রথম রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই রায়কে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসিকিউশনের বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া এলাকায় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তা বিশ্বের জঘন্যতম অপরাধগুলোর অন্যতম। ওই দিন পরিকল্পিতভাবে ছয়জনকে হত্যা করে তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর আগের দিন বাইপাইল এলাকায় শাহাবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও এই মামলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Image

আজ ঘোষিত রায়ে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলার এপ্রুভার ও ২৩ নম্বর সাক্ষী শেখ আবজালুল হককে ফুল অ্যান্ড ট্রু ডিসক্লোজার দেওয়ায় ক্ষমা করে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—তৎকালীন স্থানীয় এমপি সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, এসআই আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং যুবলীগ সদস্য রনি ভূঁইয়া।

Image

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস এবং ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন আরজু।

এছাড়া এসআই আরাফাত উদ্দীন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম রায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এটি ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় এবং রায়ের অনুলিপি আজই পাওয়া যাবে। কপি পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।