স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। ভিডিওবার্তায় তিনি আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সতর্কতা
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন, এর আগেও চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থীর ওপর একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ষড়যন্ত্র থেমে নেই, বরং আরও গভীর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে নেতাকর্মীদের সমর্থন
বক্তব্যে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বিশ্বাস ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
কর্মী, নেতা ও অ্যাক্টিভিস্টদের প্রধান দায়িত্ব
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিটি কর্মী, নেতা ও অ্যাক্টিভিস্টের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো দলের প্রতিটি কথা, প্রতিটি পরিকল্পনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। তবে শুধু পৌঁছে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও নিতে হবে।
বাস্তবায়নের পথ হিসেবে নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ জনগণ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে, যা এসব কর্মসূচির যৌক্তিকতার প্রমাণ। এখন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হবে।
কর্মসংস্থান সংকট ও তরুণদের বাস্তবতা
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত হয়েও বিপুলসংখ্যক তরুণ চাকরি পাচ্ছে না। অনেকের হাতে স্মার্টফোন থাকলেও ছবি, ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনলাইন আয়ের জন্য কার্যকর সরকারি নীতিমালা ও বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার সহজ ব্যবস্থা নেই।
ডিজিটাল কর্মসংস্থান ও তরুণদের সম্ভাবনা
তিনি বলেন, তরুণদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য উপযুক্ত সুযোগ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিদেশমুখী তরুণদের প্রবণতা ও শ্রমবাজারের বাস্তবতা
গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ইচ্ছা থাকলেই বিদেশে কাজের সুযোগ পাওয়া যায় না। জাপান, ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কৃষি ও কেয়ার সেক্টরে জনবল সংকট থাকলেও ভাষা ও দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশিরা পিছিয়ে রয়েছে।
ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা
ভবিষ্যতে আনস্কিল লেবার পাঠানোর পরিবর্তে ভাষা শিক্ষা ও কাজভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। স্কুল পর্যায় থেকেই আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশ ও পানির সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ
তারেক রহমান ঢাকায় পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণকে ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। পানির সংকট মোকাবিলায় খাল খনন ও নদী পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন।
স্বাস্থ্যখাতের সংকট ও করণীয়
তিনি বলেন, হাসপাতালের সক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় এবং গ্রামে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর ওপর জোর দেন তিনি।
দলীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের আহ্বান
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ কমাতে না পারলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতীতে সংকটে বিএনপির ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রাপ্তির প্রশ্ন নয়, বরং দেশকে কী দেওয়া যায়—এই মানসিকতা নিয়েই আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এগোতে হবে। শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল অঙ্গীকার।





