বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোসহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। একই সঙ্গে আগামীকাল একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।
রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে আগামীকাল দেশের প্রতিটি মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন থাকবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনে শোক বই খোলা হবে।
বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসংক্রান্ত সব বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ গভীর শোকের সময় আমরা সবাই এখানে সমবেত হয়েছি। পুরো জাতি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছিল, যাতে তিনি আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বছর থাকেন। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং জাতির পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি তখন বেশ উৎফুল্ল ছিলেন এবং দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্যদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর উপস্থিতি আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য এক বিরাট ক্ষতি।”





