বিজয় দিবস উপলক্ষে ম্যারাথন পূর্ব বক্তব্যে অতীত রাজনীতির কঠোর সমালোচনা ও নতুন রাজনীতির আহ্বান
স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথনের আগে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। সাবান আর সার্ফ এক্সেল যা দিয়েই ধোয়া হোক, কালো কয়লা আরও কুচকুচে কালো হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তিন দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে—১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি এবং ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি। প্রতিবারই ক্ষমতায় এসে তারা বাংলাদেশকে রক্তপাত ও লাশ উপহার দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছিল। তারা বলেছিল, অতীতে যে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে তার জন্য বিনাশর্তে ক্ষমা চায় এবং একবার সুযোগ দিলে ভালো কাজ করবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা আবারও নিজেদের আসল রূপে ফিরে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চট্টগ্রামে গিয়ে দলীয় নেতাদের উদ্দেশে হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে “দশটা লাশ ফেলে দেওয়ার” হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই সে সময় সারাদেশে খাল-বিল, নদী-নালা, হাট-মাঠ ও জঙ্গলে মানুষের খণ্ডিত লাশ পাওয়া যেত বলে দাবি করেন তিনি।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে লগি-বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন মাটিতে পড়ে থাকা নিথর দেহের ওপর উঠে নাচানাচি করা হয়েছিল, যা বিশ্ব বিবেককে লজ্জিত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় এসে তারা বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে গণহত্যা এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার মাধ্যমে খুনের রাজত্ব কায়েম করে। দেশের এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে তাদের শাসনামলে মানুষ হত্যা বা নারীর ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে একজন মায়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা ১৮ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর তারা ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সর্বশেষ শরিফ ওসমান হাদীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি শরিফ ওসমান হাদীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের যুব ম্যারাথনের মাধ্যমে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে জানানো হচ্ছে—অতীতের ব্যর্থ ও রক্তাক্ত রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না। এখন প্রয়োজন নতুন রাজনীতি, যা হবে দেশ, জাতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ধর্ষণের বিপক্ষে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের সূচনা হবে। জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যেন কোনো কারচুপি বা ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে হবে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে।





