খামেনি হত্যার জবাবে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা, বৈরুতসহ লেবাননে ইসরাইলের পাল্টা আঘাত

যুদ্ধবিরতির পর প্রথম হামলার দাবি হিজবুল্লাহর, উত্তেজনায় লেবাননজুড়ে আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার, ২ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার জবাবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর আজ সোমবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, ‘হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাবে’ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এবং ‘লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষায়’ তারা এ হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া এক বছরের যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে এটিই তাদের প্রথম হামলা।

ইসরাইল এরপর থেকে লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে, যা সাধারণত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলে দাবি করা হয়।

আজ ভোরে বৈরুতে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপি’র এক সাংবাদিক। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি, যেখানে হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেখান থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে।

এনএনএ আরও জানায়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও দেশের দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বৈরুত এলাকায় হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তু এবং দক্ষিণ লেবাননে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরাইলের ওপর হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, সরকার ‘দুর্বৃত্তদের থামাতে এবং লেবাননের জনগণকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

লেবানন সরকার আগে থেকেই বলে আসছে, তারা আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র থেকে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঢেউ শুরু হয়।