ঢাকা, বুধবার,
ভেতরের একটি মহল গণতন্ত্রকামী শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করছে’ – মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরের একটি মহল সচেতনভাবে গণতন্ত্রকামী শক্তিকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি ভোট বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বুধবার ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের যৌথ উদ্যোগে কাজী জাফর আহমদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের জন্য নিত্যনতুন দাবি তুলছে। সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা কিংবা পিআর ব্যবস্থার মতো জটিল বিষয় সামনে আনা হচ্ছে—যা বোঝাতে এবং বাস্তবায়নে সময়সাপেক্ষ। এসব আসলে নির্বাচন ব্যাহত করার কৌশল।”
তিনি আরও দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। “আজকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, এস আলম দিল্লিতে বসে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ও নির্বাচন ঠেকানোর পরিকল্পনায়,” বলেন ফখরুল।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা যদি মনে করি সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাহলে বড় ভুল হবে। আমাদের আরও বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। “নিউ ইয়র্কে আমাদের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তখন প্রশ্ন জাগে, কোথায় যাব আমরা?”—উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। “১৯৭১ সালের ভয়াবহ গণহত্যার সহযোগীরা আজ বড় বড় কথা বলছে। অথচ আমরা যারা যুদ্ধ করেছি, আমাদের অনেকের পরিবার শহীদ হয়েছে। সেই একাত্তরকে ভোলানো সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
ফখরুল বলেন, “চারিদিকে দুর্নীতির ছায়া। কোনো অফিস আদালতে গেলে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। আগে এক লাখ টাকা দিতে হতো, এখন লাগে পাঁচ লাখ।”
তিনি আরও জানান, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের অবস্থা শোচনীয়। ব্যাংক থেকে একবারে পাঁচ হাজার টাকার বেশি তোলার সুযোগ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকারের এখনো সময় আছে। দ্রুত সংস্কার শেষ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিন। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করুন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করুন। এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম বাবলু এবং সঞ্চালনা করেন মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম। এতে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নুসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।





