✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

ছাত্রদলকে নিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের মন্তব্যে বিতর্ক, পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ব্যারিস্টার ফুয়াদ


১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন এবং অস্বীকার করেছেন যে তিনি সরাসরি ছাত্রদলকে এমন গালি দেননি। তিনি বলেন, ১৬ বছর যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তাদের কাউকে গালাগালি করার সুযোগ তার নেই। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভিউ ব্যবসায়ীরা তার বক্তব্য কেটে-ছেঁটে বিকৃত করেছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেলকে ঢাবির শিক্ষার্থীরা কেন ভোট দিয়েছে, সেটা তুলনা করতে গিয়ে তিনি ছাত্রদলের প্যানেলের কিছু সদস্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষার্থীরা মনে করেছিল, তাদের চেহারা দেখে ‘গাঁজাখোর বা চাঁদাবাজ’ মনে হয়। কিন্তু তিনি দাবি করেন, এটা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তার ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়।

তবে এই বক্তব্যের ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ছাত্রদল নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকে এটিকে উদ্দেশ্যমূলক ও অপমানজনক মন্তব্য বলে নিন্দা জানান। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের গৌরবময় ইতিহাস অস্বীকার করে এই মন্তব্য প্রোপাগান্ডার অংশ।

বরিশাল প্রেস ক্লাবে ফুয়াদের হুবহু বক্তব্য ছিল:
“টি-শার্ট পরা মেয়েরা সাদেক কাইউমকে ভোট দিয়েছে—এটা তো জামায়াত-শিবিরের সাথে যায় না। তাহলে তারা শিবিরকে কেন ভোট দিয়েছে? কারণ তারা বলেছে, শিবিরের ভাইদের সাথে নিরাপত্তাবোধ করে। কিন্তু ছাত্রদলের ভাইদের দেখলে তাদের গুন্ডা-পান্ডা, গাঁজাখোর-চাঁদাবাজ মনে হয়।”

সাবেক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, জামায়াত-শিবির এখন ভিন্ন কায়দায় রাজনীতি করছে। তারা বিভিন্ন দলে ঢুকে পড়েছে, মিডিয়ায় ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তবে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক সংগ্রাম তাদের প্রোপাগান্ডাকে ব্যর্থ করেছে।

তিনি ছাত্রদলকে পরামর্শ দেন, আগামী নির্বাচনের আগে যেন কোনো প্ররোচনায় পা না দেয় এবং মাল্টিমিডিয়া টিম গড়ে তুলে অনলাইনে দলের ইতিবাচক দিক প্রচার করে।

গ্রিন টিভির হেড অফ নিউজ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মাহমুদ হাসান তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন:

“কি ভেবেছেন নিজেকে? এতটাই সাধু সন্ন্যাসী আপনি? যখন যা খুশি তাই বলে যাবেন? কাদের গুন্ডা-পান্ডা বলছেন? জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের? যাদের রাজনীতি ও উদারতার সুযোগ নিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুবিধা নিচ্ছেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করেও আজ তাদের গুন্ডা-পান্ডা বলছেন? ইতিহাস ঘেঁটে দেখেন—৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ১৭ বছরের সংগ্রামে ছাত্রদলই রাজপথের অগ্রভাগে ছিল। এগুলো ছাত্রদলের ইতিহাস, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস।”

তিনি আরও লেখেন, “আপনি ভেবে দেখেছেন কি, সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া। আর সেই ছাত্রদলের ছায়া অভিভাবক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। অথচ আজ তাদেরই সন্তানদের আপনি গুন্ডা-পান্ডা বলছেন? আপনার বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক।”

মাহমুদ হাসান সতর্ক করে লিখেছেন, “আগুন নিয়ে খেলা কখনোই অনুকূলে থাকে না, মি. ব্যারিস্টার। ছাত্রদল ও দেশপ্রেমিক জনগণ সব সময়ই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”


“