জাতীয় নির্বাচন সহজ নয়, গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধারে শপথ নিলেন তারেক রহমান

ছবি: নিউজ চ্যানেলবিডি

ঠাকুরগাঁও, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তবে আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে—জাতীয় নির্বাচন আমরা যত সহজ ভাবছি, তত সহজ নয়।”

আজ সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “নেতাকর্মীদের প্রত্যেককে সচেতন থাকতে হবে। বিগত দিনে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন, সেই কাজ এখনো শেষ হয়নি। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ওপর দায়িত্ব গণতন্ত্রের প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করা। তবে সেই পদ্ধতিতে—যেটি জনগণ সমর্থন করে। “আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মপন্থা নেব না যা জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে। ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনও দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। তাই সেই গণতন্ত্রের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।”

তিনি প্রতিজ্ঞা করে বলেন, “জাতীয় নির্বাচন এত সহজ নয়। যতদিন পর্যন্ত দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হবে, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ গণতন্ত্রের লাইনে না ফিরবে, ততদিন বিএনপির আন্দোলন থামবে না। বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধারে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনের মাধ্যমে যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে আমরা জনগণের রায়ে গঠিত সরকার থেকে আমাদের ৩১ দফার আলোকে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জীবন বাজি রেখে কাজ করব।”

এদিকে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা করতে চায়। যখন পুরো জাতি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও গণতন্ত্রে ফেরার প্রত্যাশা করছে, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

ড. ইউনূসের ঘোষণার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তিনি স্পষ্ট করেছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। তাকে এই প্রক্রিয়া থেকে কেউ সরাতে পারবে না—শুধু আল্লাহ ছাড়া। এজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে ধন্যবাদ জানাই সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে যারা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ বেছে নিয়েছে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “যারা মনে করছেন নির্বাচন বিলম্বিত করলে বা বাধাগ্রস্ত করলে তারা উপকৃত হবেন—তারা ভুল করছেন। বাংলাদেশের মানুষ এতে উপকৃত হবে না। আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। সবার সবসময় সজাগ থাকতে হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।”

সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।