জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে দায় সরকারের: বিএনপি
গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি — “সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত মান্য করার বাধ্যবাধকতা আমাদের নেই”
Posted by:
on
বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান |ঢাকা, ১১ নভেম্বর ২০২৫:নিউজ চ্যানেল বিডি |
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে আজ দুপুর বারোটায় দলের গুলশান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এতে মূল বক্তব্য প্রদান করেন। প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাউদ্দিন আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, দেশের মানুষকে অবহিত করতেই এই প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,
“রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের দীর্ঘ প্রায় এক বছরব্যাপী আলোচনার ভিত্তিতে কতিপয় নোট অফ ডিসেন্টসহ ঐকমত্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ রচিত হয়, যা গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টা জুলাই সনদের বাইরে গিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা বিভ্রান্তিকর এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার শামিল।
“জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত বিষয়গুলোর বাইরে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের তা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সেই ক্ষেত্রে সকল দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর
সরকার তো উদ্যোগ নিচ্ছে, কিন্তু আপনারা বললেন সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত মানবেন না — তাহলে বিষয়টা কোন দিকে যাচ্ছে?
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন:
“আমরা শুধু মানবো না বলিনি, বলেছি যারা স্বাক্ষর করেছে তারাও মানবে না।”
জামায়াতে ইসলামীও তো সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু তারা গণভোটের দাবিতে আন্দোলন করছে — তাহলে কি মতৈক্য নষ্ট হচ্ছে?
নজরুল ইসলাম খান:
“এইটা আমাদের জিজ্ঞেস করছেন কেন? তারা সনদে স্বাক্ষর করার পর আবার নতুন ইস্যুতে আন্দোলন করছে — কেন করছে সেটা তাদের জিজ্ঞাসা করুন।”
প্রশ্ন: আপনারা যে নোট অফ ডিসেন্টসহ স্বাক্ষর করেছিলেন, এখনো কি সেই অবস্থানে আছেন?
সালাহউদ্দিন আহমেদ:
“জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ঐতিহাসিক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দলের কিছু নোট অফ ডিসেন্ট ছিল। সনদে উল্লেখ আছে — যদি কোনো দল নির্বাচনে জয়ী হয়, তারা তাদের নোট অফ ডিসেন্ট বাস্তবায়ন করতে পারবে। আমরা এখনো সেই অবস্থানে আছি, সনদের বাইরে যাইনি।”
তিনি আরও বলেন,
“জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত সুপারিশ দিয়েছে, সেখানে নোট অফ ডিসেন্টের অংশগুলো উল্লেখ করা হয়নি। বরং তারা ৪৮ দফা প্রস্তাবের তফসিল দিয়েছে, যার মধ্যে গণভোটের প্রস্তাব আছে। আমরা আগেই বলেছি — জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়ার পক্ষে আমরা আছি।”
“কিন্তু এখন যারা সনদের বাইরে নতুন ইস্যু তুলে আন্দোলন করছে, তাদের অবস্থান জানতে চাইতে পারেন।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন:
“আমাদের আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্যই ছিল সরকারকে জানানো — সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কোনো স্বাক্ষরকারী দলের ওপর বাধ্যতামূলক নয়, দায় সরকারের।”
রাষ্ট্রপতির আদেশ (Presidential Order) প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“বর্তমান সংবিধানে কোনো প্রেসিডেন্ট অর্ডার জারির বিধান নেই। সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর সেই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে। এখন আইনি মর্যাদাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে অধ্যাদেশ। অন্যথায় কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকাশিত আদেশের আইনি মর্যাদা থাকবে না।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে বিএনপি নেতারা সরকারের প্রতি সংবিধানসম্মত পথে চলার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“আমাদের এই সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে কষ্ট করে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”