জুলাই সনদে স্বাক্ষর নিয়ে এনসিপির অবস্থান: “স্বাক্ষর করি নি, দেশকে প্রতারণার ভাগীদার হতে দেব না”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদে তারা স্বাক্ষর করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন আদেশ প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এই সনদের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক ভিত্তি থাকবে না।

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ২ নভেম্বর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, “জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করিনি। অনেকে স্বাক্ষর করে এখন বলছেন যে, জাতির সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। যখন তারা কোনো বিবেচনা ছাড়াই স্বাক্ষর করলেন, তখন তাদের বোধোদয় হয়নি?”

তিনি উল্লেখ করেন, “গণঅভ্যুত্থানের প্রধানতম রাজনৈতিক দল যখন সেই অনুষ্ঠানে গেল না, তখনও তাদের মনে হলো না যে জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে। এনসিপিকে বাদ রেখে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছিল এবং সেই দিন থেকেই জাতীয় অনৈক্য শুরু হয়েছে।”

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রাপ্ত না হলে এই সনদের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক ভিত্তি হবে না। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট থেকে জারি হলে জুলাই সনদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জারি করতে হবে।”

এনসিপি আহ্বায়ক বিএনপি ও জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, “দু’দলই গণভোট ও নির্বাচনের ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা চাই, ফেব্রুয়ারিতে যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং জুলাই সনদও আইনি ভিত্তি পাবে। সব রাজনৈতিক দল যেন ঐকমত্যে আসে।”

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়, তবে তাদেরকে আওয়ামী লীগের চোখে বাংলাদেশ দেখার নীতি থেকে সরে আসতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং গণহত্যাকারী কাউকে আশ্রয় না দিতে হবে।”

তিনি আরও জানান, এনসিপি আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতীক বরাদ্দ ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে সমস্যা হচ্ছে। “নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান, নভেম্বরের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে। প্রতীক সংক্রান্ত বিলম্বও আমাদেরকে বাধাগ্রস্ত করছে।”