স্টাফ রিপোর্ট | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
আসন্ন নির্বাচনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই নির্বাচন কোন বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ ঘটনা নয়। এটি হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক ধাপ।
তিনি বলেন, “অনেকে এটিকে গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফল হিসেবে দেখছেন। যারা এমনটা ভাবছেন, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য অস্বীকার করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে আসছে। এবারের নির্বাচন ঘিরেও তাদের তৎপরতা স্পষ্ট। তিনি বলেন, “একজন কূটনৈতিক প্রকাশ্যে বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এর মাধ্যমে তারা স্পষ্টভাবে একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শহীদ শরিফ উসমান হাদি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। “তার হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ,” বলেন তিনি।
সরকার গঠনের অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোন আধিপত্যবাদী শক্তি যদি এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
চৌদ্দগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ও বলিষ্ঠ নেতা ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সারা দেশের সব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার, সংস্কার কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। “আমরা দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব,” বলেন তিনি।
তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সব ঐতিহাসিক সংগ্রামকে ধারণ করে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ তাহের ভাইকে আমরা সংসদে পাঠাবো, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে এবং জনগণের কাছে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।”





