পূর্বাচল প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

তিন মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর

Posted by:

on

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি:
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ মোট ৫৩ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন মামলায় ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলাগুলোতে আরও অভিযুক্ত রয়েছেন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

প্রথম মামলায় শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৯ জন। এ মামলার মোট চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী ২৬ জন।
দ্বিতীয় মামলায় আজমিনা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন (মোট সাক্ষী ২২ জন)।
তৃতীয় মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৯ জন (মোট সাক্ষী ২৮ জন)।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক তিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি আদালতের পেশকার বেলাল উদ্দিন বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।


২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ১০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া আরও দুইজনকে যুক্ত করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

একই অভিযোগে আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানাসহ ১৬ জন আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তৃতীয় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এতে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানাসহ ১৬ জন আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হয় ১৮ জনের বিরুদ্ধে।

তিন মামলায়ই আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন,
এছাড়াও সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ আরও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা।

গত ৩১ জুলাই আদালত এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন।