
বাগেরহাট, ১ আগস্ট ২০২৫ — ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমানোর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার দুই দিনের সর্বদলীয় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সভায় আসন কমানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও উপস্থিত নেতা
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা ইসির প্রস্তাবকে “অগণতান্ত্রিক” ও “বাগেরহাটের জনগণের প্রতি অবিচার” বলে আখ্যা দেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত জেলার প্রতিনিধিত্ব ও উন্নয়নকে ব্যাহত করবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত নেওয়া উচিত ছিল বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, জামায়াত ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি জেনারেল ইউনুস আলী প্রমুখ।
ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বাগেরহাট বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে রয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবনসহ অসংখ্য নদী-খালবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ। জেলার অন্তর্গত মংলা সমুদ্রবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
বর্তমানে বাগেরহাটে মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে মংলা বন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত হলেও সরণখোলা ও আশপাশের অনেক এলাকা এখনো দুর্গম ও দূরবর্তী। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভোটার সংখ্যার অজুহাতে আসন কমানো হলে এই জেলা আরও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হবে। বিগত সরকারের সময়ে পর্যাপ্ত উন্নয়ন না হওয়ায়, অনেকেই মনে করছেন আসন কমানোর ফলে বাগেরহাট অনুন্নয়নের পথে আরও পিছিয়ে পড়বে।
ঘোষিত কর্মসূচি
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ভিআইপি মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন রবিবার (৪ আগস্ট) একই সময়ে কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসির এই প্রস্তাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জেলায় নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।





