বিপ্লব ও সংহতি দিবসে তারেক রহমানের আহ্বান — ‘গণভোট নয়, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কারই এখন সময়ের দাবি’
চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “রাষ্ট্র মেরামতের আগে কর্মহীন জনগণের জীবিকা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি।”
ছবি :সাইরুল কবির খান মিডিয়া সেল সদস্য বিএনপি
Posted by:
on
স্টাফ রিপোর্টার| ১২ ই নভেম্বর ২০২৫| চ্যানেল বিডি|
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বলেছেন,
“মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়ছে, তখন কথিত গণভোট নয় — কর্মজীবী নারী ও শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও শিক্ষা সংস্কারই সবচেয়ে জরুরি।”
বুধবার (১২ নভেম্বর) চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন,
“কর্মঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্তের আড়ালে যেন নারীদের চাকরি না দেয়ার কৌশল লুকিয়ে না থাকে—এমন আতঙ্ক এখন নারী সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মঘণ্টা কমানো হলেও প্রশ্ন থেকে যায়—কর্মঘণ্টার ক্ষতিপূরণের টাকা কে দেবে?”
তিনি আরও বলেন, দেশে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এক বেসরকারি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার ২৮ শতাংশ, এবং আরও ১৮ শতাংশ মানুষ যেকোনো সময় গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে প্রতি ৫ জনে ১ জন বেকার।
সম্প্রতি বিজিএমই জানিয়েছে, গত ১৪ মাসে গাজীপুর, সাভার, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৩৫৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, ফলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। “এইসব কর্মহীন মানুষের কাছে হাজার কোটি টাকার কথিত ‘গণভোট’-এর চেয়ে একটি চাকরি অনেক বেশি জরুরি,” — মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন,
“দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা দেখাচ্ছে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। ‘এআই যুগে’ টিকে থাকতে হলে গণভোট নয়, শিক্ষা সংস্কার নিয়েই গবেষণা করা দরকার।”
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৬ শতাংশ, যা এখন নেমে এসেছে ৪ শতাংশের নিচে। তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতে লুটপাট, রপ্তানি হ্রাস, ও বিদেশি আস্থাহীনতা — সবই দেশের অর্থনীতিকে নাজুক করে তুলছে। দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি স্থিতিশীল সরকার।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,
“গণভোটের আড়ালে যদি পতিত ও পরাজিত স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হয়, তাহলে তা দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়াবহ।”
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে। “জুলাই সনদে যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, বিএনপি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,”— তিনি যোগ করেন।
শেষে তিনি বলেন,
“সবার আগে দরকার রাষ্ট্র রাজনীতি থেকে মোনাফেকী মনোভাবের পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক মানসিকতা ও জাতীয় ঐক্য। আমাদের স্লোগান একটাই — দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”