ভোটের উৎসবের অপেক্ষায় দেশ, কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে বৃহস্পতিবার সারাদেশে ভোট

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা, ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা; মাঠে থাকবে সেনাবাহিনীসহ প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তাকর্মী

Posted by:

on


ঢাকা | স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


ভোটের উৎসবকে ঘিরে অপেক্ষায় পুরো দেশ। কাল বাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটে জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে তৈরি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার বলয়। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখনো উদ্ধার না হওয়া কিছু লুটের অস্ত্র ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন পুলিশ প্রধান। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ঘরমুখো মানুষের ঢল

রাজধানীর পরিস্থিতি জানতে শাহবাগ এলাকা থেকে সরাসরি কথা বলেন আমাদের সহকর্মী লিমন মাহমুদ তিনি জানান, শাহবাগ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চললেও অন্যান্য দিনের তুলনায় যানজট কিছুটা কম। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভোট দিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

যান চলাচলে বিধিনিষেধ

নির্বাচনকে ঘিরে আজ রাত ১২টার পর থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ পাশ যুক্ত স্টিকার থাকলে চলবে গাড়ী এবং বাইক, সঙ্গে প্রাইভেট কার ও গণপরিবহন ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে বন্ধ করে দেওয়া হবে। লঞ্চ টার্মিনালগুলোতেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়, যারা ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন।

কারওয়ান বাজারেও কড়া নিরাপত্তা

কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আমাদের সহকর্মী নয়ন আলম জানান, সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ টহল জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। অনেকেই বলছেন, পাঁচ বছর পর আসা এই ভোট তাদের জন্য ঈদের চেয়েও বেশি উৎসবের।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া প্রস্তুতি ও ভোটারদের আগ্রহে দেশজুড়ে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।