স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—তাদের অপরাধের তুলনায় সাজা কম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির সীমার মধ্যেই রায় দিতে বাধ্য। শেখ হাসিনাকে দুইটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং অন্যান্য অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় আইজিপি আল-মামুন কম সাজা পেয়েছেন।
“অপরাধের বিচার একদিন হবেই—আজকের রায় তা প্রমাণ করেছে”
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“ফেসিস্ট স্বৈরাচার যত শক্তিশালীই হোক, যত দিনই অবৈধ ক্ষমতায় থাকুক না কেন—একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবেই। আজকের রায় তার প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে দমন-পীড়ন, খুন, নির্যাতন, বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের চেষ্টায় রাষ্ট্রব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অপশাসনে দেশ পিছিয়ে গেছে বহু বছর।
“আমরা পিষ্ট হয়েছি, কিন্তু দেশকে আর পিছনে যেতে দেব না”
তিনি বলেন,
“এ দেশের মানুষ পিষ্ট হয়েছে, আমরা পিষ্ট হয়েছি। উন্নয়ন ও অগ্রগতি বহু বছর পিছিয়েছে। আর পিছনে তাকাতে চাই না।”
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার
আগামীতে দেশে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন—
“একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ব। প্রতিটি মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়—সেজন্য আমরা অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”
“এই রায় ভবিষ্যতের শাসকদের জন্য সতর্কবার্তা”
তিনি বলেন,
“আজকের এই রায় শুধু ন্যায়বিচার নয়, ভবিষ্যতের জন্যও এক দৃষ্টান্ত। যাতে এ দেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে না পারে। কেউ যেন স্বৈরশাসকে পরিণত না হতে পারে। আদালতের এই রায় ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা।”
শেষে তিনি এই রায়কে “বাংলাদেশের বিচারযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেন।





