রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়; রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু জয়ী হওয়ার জন্য জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা বা ফ্যাসিবাদ কায়েম করার রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে জনগণের অধিকার।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে সূত্রাপুর থানার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। টানা তিনটি নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের নিপীড়নের পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ অবাধ নির্বাচনের পথ তৈরি করেছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং ঢাকা-৬ আসন থেকে তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে চায় বিএনপি।
বিএনপির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বিএনপির হাত ধরেই দেশে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কখনো আপস করেনি।
ইশরাক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং জনগণের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে নিজেদের সুবিধার জন্য পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই ওসমান হাদীর ওপর হত্যাকাণ্ড কিংবা হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে। অতীতের গুম, খুন ও নিপীড়নের ঘটনার পেছনেও একই শক্তি জড়িত ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এসব অপকর্মের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্ব জড়িত ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে সুশাসন, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথ কার্ড’ বা স্বাস্থ্য বিমা চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে জ্ঞানভিত্তিক ও চাহিদানির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে মেধাবীরা বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে থেকে না যায়।
ঢাকা-৬ আসনের স্থানীয় সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা, গ্যাস সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করে বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান নাগরিক এবং কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হোন বা না হোন, আজীবন জনগণের পাশেই থেকে রাজনীতি করবেন। এ সময় তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন, আহত নেতা ওসমান শরীফ হাদির আরোগ্য কামনা করেন এবং বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সূত্রাপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ হাবিবুর রহমান জুম্মা, এম এস মন্টু, শ্রী তপন ঘোষ মহাদেব মোদক, অ্যাডভোকেট নাসরিন বেগম, শিক্ষক মোহাম্মদ হাসান, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারেক আহমেদ, সম্পাদক মো. হাসান খান প্রদীপসহ বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ।





