রুমিন ফারহানাসহ বিএনপির ৯ নেতা বহিষ্কার

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে (বিএনপি) থেকে রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিএনপির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কারের কারণ

বিএনপি সূত্র জানায়, দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট নেতারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এটি দলীয় শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত ৯ নেতা.

১. — বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত।

২. সাইফুল আলম (নীরব) — ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, রাজধানীর রাজনীতিতে পরিচিত সংগঠক।

৩. মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) — সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্রদলকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিচিত মুখ।

৪. তরুণ দে — বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা।

৫. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন — বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত।

৬. মোহাম্মদ শাহ আলম — জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

৭. হাসান মামুন — যুব ও তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিএনপি নেতা।

৮. আব্দুল খালেক — উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা, স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।

৯. মেহেদী হাসান পলাশ — বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্থানীয় সাংগঠনিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ।

দলীয় বক্তব্য

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানায়, “দলীয় ঐক্য, আদর্শ ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিচিত ও দায়িত্বশীল নেতাদের বহিষ্কারের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক শৃঙ্খলা জোরদার করার বার্তা দিতে চাচ্ছে। বিশেষ করে রুমিন ফারহানার মতো জাতীয় পর্যায়ের মুখের বহিষ্কার দলটির ভেতরে ও বাইরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বহিষ্কারের ঘোষণার পর কেউ সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, কেউ আবার নীরব থেকেছেন।
রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন,
“আমি দলকে ভালোবেসেই রাজনীতি করেছি। মত প্রকাশের কারণে শাস্তি হলে, সেটি ইতিহাসই বিচার করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় করেছি বলে মনে করি না।”
তিনি আরও বলেন, দলীয় রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকা অপরাধ হওয়া উচিত নয়।
অন্যান্য বহিষ্কৃত নেতাদের প্রতিক্রিয়া
সাইফুল আলম (নীরব)
— ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক দিক পর্যালোচনা করছেন।
মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)
— সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি।
তিনি বলেন,
“দীর্ঘদিনের ত্যাগের পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত কষ্টদায়ক। তবে সময়ই এর উত্তর দেবে।”
তরুণ দে
— বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব।
তিনি জানান, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে তিনি অন্যায্য ও একপেশে মনে করেন এবং বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন।
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
— স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতা।
তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি আপাতত নীরব অবস্থান নিয়েছেন।
মোহাম্মদ শাহ আলম
— জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন,
“দলীয় রাজনীতিতে শৃঙ্খলা জরুরি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের বক্তব্য শোনা হয়নি।”
হাসান মামুন
— তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতা।
তিনি বহিষ্কারের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
আব্দুল খালেক
— উপজেলা বিএনপির নেতা।
তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মেহেদী হাসান পলাশ
— বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“আমি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি, তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ চাই।”
দলের অবস্থান অপরিবর্তিত
বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও দলীয় সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, এই বহিষ্কার ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়াগুলো বিএনপির ভেতরে ভিন্নমত বনাম শৃঙ্খলা বিতর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত মুখদের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দলটির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।