শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর হামলার অভিযোগ, দোষীদের শাস্তির দাবি পঞ্চগড়ে

ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির কর্মসূচিতে হামলা, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

পঞ্চগড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওসমান হাদি হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা ও সাধারণ মানুষ জেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভ শেষ করে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের বুট দিয়ে পাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং রক্তাক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পঞ্চগড়ের জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা এমন পাঁচ-ছয়জনকে আলাদাভাবে টেনে-হিঁচড়ে জেলা পরিষদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বললে পুলিশ জানিয়েছে—আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাচ্ছিল। এরপর কেন সেনাবাহিনী সেখানে হামলা চালাল, সেটি পুলিশের কাছেও বোধগম্য নয়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারাও স্পষ্ট করে বলতে পারেননি কার নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হামলা বলেও দাবি করা হয়।

জেলা পরিষদ চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রশাসনের অধীনে রয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ফুটেজ গায়েব করার কোনো নাটক মেনে নেওয়া হবে না। ক্যামেরা নষ্ট বা বন্ধ থাকার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ফুটেজ প্রকাশ করে জানাতে হবে—কারা, কেন এবং কার নির্দেশে হামলা চালিয়েছে।

বক্তব্যে বলা হয়, সেনাবাহিনী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া তারা এক পা-ও চলতে পারে না। সেক্ষেত্রে এখানে কার নির্দেশে এই হামলা হয়েছে, সেটি স্পষ্ট না করা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের ছাত্রজনতা চুপ থাকবে না।

শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় না আনা হলে এবং ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা না দিলে জেলার শান্তিকামী জনগণ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। ভবিষ্যতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ওপরই বর্তাবে।