স্টাফ রিপোর্টার| ঢাকা, ১৫ নভেম্বর ২০২৫|
নিউজ চ্যানেল বিডি,
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি সহিংসতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া একাধিক অডিও-ভিডিওতে তাঁর এসব নির্দেশের স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, প্রকাশিত অডিও-ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে—শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে আন্দোলন ‘ভায়োলেন্ট’ভাবে দমন করতে বলেছিলেন। তিনি কয়েকজনকে ভৎসনা করে বলেন—অমুক বাহিনী যদি পারে, তোমরা পারবে না কেন?
তিনি অভিযোগ করেন, “যিনি রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন, তিনিই এই দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে হলে যত রক্তপাত হোক, যত লাশ যাক—সেটা তাঁর কাছে গুরুত্ব পায়নি।”
রিজভীর দাবি, চলমান আন্দোলনে ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং পুলিশের গুলিতে অন্তত ৬০০ তরুণ-তরুণী চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এসব কিছু ঘটেছে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশেই।”
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, “যদি শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন, তাহলে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খুলে দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি; বরং মানুষের জীবন উৎসর্গ করে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন।”
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোকে ‘আত্মপক্ষ সমর্থন’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, আদালতের রায় নিয়ে তিনি আগাম মন্তব্য করতে চান না, তবে জনগণের বিশ্বাস—অপরাধের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।
এসময় জামায়াতে ইসলামসহ আটটি ইসলামি দলের যুগপৎ কর্মসূচির প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, হাসিনার পতনের পর এই সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা রাজনৈতিক দলের অধিকার। পিয়ার এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা চলমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “পয়েন্ট অব নো রিটার্ন ধরনের কর্মসূচি এখন কোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়া উচিত নয়। গণতন্ত্রে আছে আলাপ-আলোচনা, সমালোচনা, প্রতিবাদ—কিন্তু চরম সংঘাতমুখী অবস্থান গণতন্ত্রকে ধসিয়ে দিতে পারে।”





