সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান; বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও সমস্যার পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস


স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণই সরকারের লক্ষ্য।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন, গোত্রভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন, বসতি উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং এবং দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।