স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশে বিদ্যমান হাম পরিস্থিতিতে রাজধানীর একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে মাত্র ৫০টি বেড নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৭০০ বেডে উন্নীত হলেও সারা দেশ থেকে জটিল রোগী আসার কারণে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীকে ভর্তি না নিয়েই ফেরত যেতে হচ্ছে এবং অনেকেই আউটডোর থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এটি দেশের একটি স্পর্শকাতর ও ডেডিকেটেড শিশু হাসপাতাল, যেখানে নবজাতক থেকে শুরু করে শুধুমাত্র শিশুরাই চিকিৎসা পায়।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা হাসপাতাল থাকায় এখানে রোগীর চাপ বেশি।
হাসপাতালের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে।
অন্যান্য অনেক সরকারি হাসপাতালের মতো ফ্লোর বা করিডোরে বেড বসানোর দৃশ্য এখানে দেখা যায় না।
তবে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালে পিআইসিইউ, এনআইসিইউসহ একাধিক আইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো জরুরি ডায়াগনস্টিক সেবা নেই।
এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার কারণে বাইরে পাঠানোও সম্ভব হয় না।
অর্থায়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
আগে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিলেও গতবার তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে অনুদান বাড়ানো উচিত ছিল। কমানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই, বিশেষ করে যখন জাতীয় বাজেট প্রতি বছরই বাড়ছে।”
তিনি আরও জানান, শিশুস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।





