উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট, এখন চলছে গণনার প্রস্তুতি; বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই

স্টাফ রিপোর্টার,১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউ চ্যানেল বিডি

উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে ভোট শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। ভোট শেষে বিভিন্ন কেন্দ্রে এখন গণনার প্রস্তুতি চলছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ছিল চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি। দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ। ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায় অনেককে। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ আবার প্রথমবার ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এবারই তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, সকালে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে। প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল বলে তিনি জানান।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে বলেন, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট হয়নি।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়া শুধু নাগরিক অধিকার নয়, এটি একটি দায়িত্বও। তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ এবং র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। প্রথমবারের মতো ড্রোন ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে।

দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।

মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩।

এবারের নির্বাচনে ৮১টি দেশীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।

পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ২১৪ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণা শুরু হবে গণনা শেষ হলে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।