স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়নের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংকট উত্তরণে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ -এর নেতৃত্বে গঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তী সরকার।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্র অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ে, লুটপাট ও অর্থপাচারে ব্যাংকিং খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার প্রতিও জনআস্থা ছিল তলানিতে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। তাদের সুপারিশ ও সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে বাস্তবসম্মত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন, নতুন ও সংশোধনী মিলিয়ে, প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগের প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। -এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে প্রায় ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। -এর সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে। -এর সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে। এছাড়া -এর সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং -কে তথ্য প্রকাশে অধিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কারের অংশ হিসেবে ১,২০০-রও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। -কে পুনর্গঠন করে “স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স” নামকরণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার, মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ হওয়া গণমাধ্যম পুনরায় চালুর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও জানানো হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংস্কারগুলোর মাধ্যমে একটি নাগরিকবান্ধব কাঠামোর সূচনা হয়েছে। ১৬ বছরের ক্ষতি আঠারো মাসে পূরণ সম্ভব না হলেও, দেশ স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১৮ মাসের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে একটি রিফর্ম বই প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বইটির পিডিএফ পড়তে ক্লিক করুন।





