প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল মাঠ ও খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

খেলার মাঠের সংকট কাটাতে সারাদেশে নতুন পরিকল্পনা, শহর-গ্রামে মাঠ নির্ধারণে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

খেলার মাঠের সংকট কাটাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল খেলার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সব বয়সের মানুষ সহজেই খেলাধুলার সুযোগ পায়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সারাদেশের শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সভায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঢাকা মহানগরের খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাঠের জায়গা খুঁজে বের করতে প্রয়োজনে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হবে। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে অন্তত দুটি ওয়ার্ডের মাঝখানে একটি খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাতেও জায়গা না পাওয়া গেলে তিনটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি বড় খেলার মাঠের স্থান নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ফুটসাল খেলার প্রসারে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ডেডিকেটেড ফুটসাল মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে খেলার মাঠের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ এবং বিভিন্ন স্কুলের অধীনে থাকা খালি জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সেগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মাঠগুলো শুধু খেলার জন্য নয়, বরং সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। মাঠের চারপাশে ওয়াকওয়ে বা হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে, যাতে বয়োজ্যেষ্ঠরা নিরাপদ পরিবেশে সকাল ও বিকেলে হাঁটাচলা করতে পারেন।

সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং উপজেলা সদরে একটি করে খেলার মাঠ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মাঠটি যেন ইউনিয়নের কোনো প্রান্তে না হয়ে জনপদ ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মাঝামাঝি স্থানে নির্ধারণ করা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

মাঠ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত তদবিরকে প্রশ্রয় না দিয়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।