স্টাফ রিপোর্টার | ১ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।
বুধবার ঢাকায় সড়ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন, মানসম্মত চারা ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলোর টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন পূর্ণতা পায়—সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।
জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবারে নতুন সদস্য আগমন বা আনন্দঘন মুহূর্তে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এতে অল্প সময়েই একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে বনভূমির ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলতি বছরে ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এটি একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচি সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই কার্যক্রম শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিকল্পিতভাবে সড়কভিত্তিক বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।





