রাজধানীতে ব্লক রেইড জোরদার, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার বাড়ছে; তালিকা করা হচ্ছে অপরাধীদের

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।

একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

দেশে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), ডিএমপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মোহাম্মদপুর, শের-ই-বাংলা নগর, আদাবর, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও হাতিরঝিল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

ডিএমপি’র তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেফতার এবং ১ হাজার ৩০৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর ১১টি থানায় ২ হাজার ৬২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় ৬৭৪, হাজারীবাগে ৪৯৪, মিরপুরে ৪৬৯, উত্তরা পশ্চিমে ২৩৪, শাহবাগে ১৫৯, বংশালে ১৩২, লালবাগে ১২৮, বাড্ডায় ১১৫, মতিঝিলে ১০২, ধানমন্ডিতে ৬৭ এবং নিউমার্কেটে ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং পুলিশ-জনগণের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও উন্নত করার কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খুন, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে কাজ করছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিভিন্ন অপরাধে ৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ২টি মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত।