স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুতের কোনো বড় সংকট নেই। মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোল পাম্পভিত্তিক সরবরাহের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন, অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। নতুন জ্বালানি নিয়ে জাহাজ আসছে। তবে প্যানিক বায়িংয়ের কারণে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।’
বর্ধিত চাহিদা মোকাবিলায় বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি বিক্রি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেন ২০ শতাংশ বেশি হারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযানে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলায় মোট ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ‘Fuel Pass BD’ অ্যাপের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের মোটরসাইকেল চালকরা এতে নিবন্ধন করতে পারছেন।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী নিবন্ধন করেছেন। আপাতত ঢাকার ১৮টি নির্ধারিত পাম্প থেকে নিবন্ধিত চালকরা এ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি নিতে পারবেন।
গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ভোক্তা ও পরিবহন মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করছে, যাতে দ্রব্যমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে অভিযান, হাওর এলাকায় ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।





