মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খুন, এক সপ্তাহের মধ্যে পিবিআইর আসামি গ্রেফতার

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা: মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ফয়সাল মোল্লা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মো. বিপ্লব হাসান বিপুকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা।

গত ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর সাতৈর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আশুলিয়া থানাধীন শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় ফয়সাল মোল্লা (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মো. বিপ্লব হাসান বিপু (২৮), মো. মাসুদ (৩৪) এবং আরও অজ্ঞাতনামা ১/২ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত আসামিরা পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আহসান উল্লাহ মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে তদন্ত টিম অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত বিপুর দেখানো মতে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকার হাজী আলতাফ সরদারের নার্সারির কাঁঠাল গাছের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছেনি দা ২১ এপ্রিল সকালে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআইর তদন্তে জানা যায়, বিপু মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তার গরুর খামারের কর্মচারীরা তাকে সহযোগিতা করত। নিহত ফয়সাল মাদকাসক্ত এবং বিপুর বন্ধু ছিলেন। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফয়সাল বিপুর খামারের কর্মচারীদের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে বিপু ও তার বড় ভাই মাসুদ মোবাইল ফেরত আনতে গেলে ফয়সাল দা নিয়ে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে তারা ফয়সালের কাছ থেকে দা কেড়ে নিয়ে তাকে কুপিয়ে এবং রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

পিবিআই, আশুলিয়া হত্যা, ফয়সাল মোল্লা হত্যা, বিপ্লব হাসান বিপু, মোবাইল ফোন বিরোধ, হত্যাকাণ্ড, ফরিদপুর বোয়ালমারী, দা উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তি, ঢাকা জেলা পিবিআই