জনপ্রশাসনের সব পদেই কাজের মানসিকতা থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডিসি সম্মেলনে কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

রাজধানী ঢাকা-তে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ এবং সব পদে কাজ করার মানসিকতা কর্মকর্তাদের থাকতে হবে।

আজ সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে তা সাময়িক লাভ দিলেও সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পছন্দের পদে থাকার মানসিকতা দুর্নীতি ও অপেশাদারিত্বের অন্যতম কারণ।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময়ে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রতিটি পদকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতাই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূলনীতি হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

ডিসি সম্মেলনে তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা জনগণ ও সরকারের মধ্যে প্রধান সেতুবন্ধন। তাদের সততা ও কর্মদক্ষতার ওপর সরকারের কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি প্রশাসনকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন।

একইসঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে জনগণ যেন হয়রানি বা বিলম্বের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনকেও সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

চার দিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণ রয়েছে।

সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে এসব প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হবে।