রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার: ডিএমপি

৪৮ ঘণ্টায় দেড় শতাধিক চাঁদাবাজ আটক, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

রাজধানী ঢাকা-তে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ডিএমপি’র প্রধান অঙ্গীকার। সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, আকস্মিক ব্লক রেইড, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডিবির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণা দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকাভুক্ত নয় এমন চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য ও ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

এছাড়া মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণায় জড়িতদের আটক করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বাজার, টার্মিনাল ও জনবহুল এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আগামী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অপরাধপ্রবণ নতুন এলাকা চিহ্নিত করে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, অপরাধ দমন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, এতে নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়— তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।