গুমের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তিতে আইন করা হবে: আইনমন্ত্রী

অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “হুট করে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না, যেটা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে লাভবান করবে।”

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন–এ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, গুমের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এমন আইন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কখনো গুমের ঘটনা না ঘটে।

সভায় তাহসিনা রুশদী বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে তাঁর স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় ভেবেছি তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু আজও তাঁর কোনো খোঁজ পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন এবং এমন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে গুমের শিকার হতে না হয়।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার সংগঠন মায়ের ডাক–এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, অতীতের মানবাধিকার কমিশনগুলো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ইউএনডিপি–এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা গুম প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়ন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বিচারিক কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।