স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ ঢাকার লেকগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মীর শাহে আলম।
আজ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, লেক ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সৌন্দর্যবর্ধন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজধানীর লেকগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই লেক ও খাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু মৌসুম সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীবান্ধব দেশ গড়তে সরকার বিভিন্ন অবকাঠামোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে র্যাম্প ও আলাদা টয়লেট স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন বন্ধ রাখা হবে।
সভায় রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেক ও খাল পরিষ্কার, পানি প্রবাহ সচল রাখা, যানজট নিরসন এবং বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নগর পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক এবং বিভিন্ন সোসাইটির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেকগুলোতে সম্পূর্ণভাবে স্যুয়ারেজ সংযোগ বন্ধ করার তাগিদও দেন তিনি।
সভায় রাজউকের সংশোধিত আইন অনুযায়ী ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরোনো ভবনে ছয় মাসের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক এবং দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপন করতে হবে।
এ ছাড়া ঢাকার লেকগুলোকে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ওয়াটার বাস চালু, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমবে এবং নগর পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সভায় ঢাকা ওয়াসা–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





