বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণ, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বন্যপ্রাণী আইন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু

আজাদ রুহুল আমিন বিশেষ প্রতিনিধি ,১ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি বাগেরহাট।

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে ফাতেমা (৭) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাতেমা তার মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। গোসল করতে নামার পর হঠাৎ একটি কুমির শিশুটিকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে উপস্থিত লোকজন দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের সমাগম হয়েছে।

বন্যপ্রাণী আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাজারে আগত দর্শনার্থী রাহাত আমিন অভি বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে দিঘিতে কুমির রাখার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি দিঘি থেকে কুমির অপসারণের দাবিও জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা নির্দিষ্ট বিধিবিধানের আওতায় পরিচালিত হয়। কোনো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, প্রদর্শন বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে এ ধরনের ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কুমিরের আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য ঝুঁকি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি মাজার দিঘিতে থাকা কুমিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।