নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপোষ না করায়, ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমার প্রতিটি দিন কেটেছে সংগ্রামে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলের অন্ধকার সময়ে, যখন গোটা ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব ও অত্যাচারের যাঁতাকলে পিষ্ট, তখন আমরা কয়েকজন সাধারণ তরুণ চোখে আগুন আর মনে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম প্রতিরোধের পথে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আরো জানান
হলে থাকার সৌভাগ্যটুকুও কখনো হয়নি। গণরুম–গেস্টরুমের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি রাজপথে গলা ছেড়ে স্লোগান তুলেছি।
জুলাইয়ের আগুনঝরা দিনগুলো
সেই দৈনন্দিন লড়াইয়ের গল্পে একদিন আসে জুলাই। প্রতিটি দিন ছিল আগুনঝরা। রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের মত অকুতোভয় যোদ্ধাদের পথে হেঁটে আমরাও ঢাকার পথে পথে নির্ভীক চিত্তে বুক পেতে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছি।
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫
১৯ আগস্ট ২০২৫, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভ্যন্তরে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের ভোটাভুটির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ডাকসু ভিপি পদপ্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনীত করা হয়। পরদিন সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে নাম ঘোষণার মুহূর্তে আমি স্তব্ধ ছিলাম—দায়িত্বের ভারে আতঙ্কিতও হয়েছিলাম। শুরু হয়েছিল জীবনের এক ঐতিহাসিক লড়াই।
আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতি। অল্প সময়ের এই ক্যাম্পেইনে আপনারা আমার উপর বিশ্বাস রেখে দিন-রাত এক করে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, টিএসসি ও বিভাগ ভিত্তিক ক্লাব, জেলা-উপজেলা ভিত্তিক সংগঠন, বাস কমিটি, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ যারা আমাকে ভালোবেসেছেন ও সহযোগিতা করেছেন—আমি তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। হয়তো নির্বাচনী ব্যস্ততায় সবার সাথে সময় কাটাতে পারিনি, তবে আপনাদের ভালোবাসায় আমি চিরঋণি।
সংগ্রাম অব্যাহত
অসংখ্য প্রতিকূলতায় আপনাদের দু’আ আমার পথচলার পাথেয়। তবে মনে রাখবেন, সংগ্রাম শেষ হয়নি। অনৈতিকতার বিরুদ্ধে নৈতিকতার সংগ্রাম চলবেই। আমাদের জীবনে কোনো হার-জিত নেই, স্বার্থকতা শুধুই দায়িত্ব পালনে।
“যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে-পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়!”
— কাজী নজরুল ইসলাম





