নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজে শ্রম আইন, শ্রমিকের অধিকার ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কূটনীতিক, জাতিসংঘ কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “বৃহৎ পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শ্রম সংস্কার অপরিহার্য।” একই সঙ্গে তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আয়োজিত নৈশভোজে আইএলও মহাপরিচালক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শ্রম খাত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শ্রম সংস্কার নিয়ে সর্বদলীয় ঐকমত্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোশাক শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার যেই হোক না কেন, খাতটির প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার প্রচেষ্টাকে স্বীকার করেন।
জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, তাঁদের দলের অনেক নেতার সরাসরি অভিজ্ঞতা রয়েছে পোশাক শিল্পে কাজ করার। এ অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান সংস্কার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।
তিন নেতার বক্তব্যেই অভিন্নভাবে উঠে আসে পোশাক রপ্তানিতে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি। তাঁদের মতে, সব সময় ক্রেতাদের শর্তে নয়, বরং ন্যায্যতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হওয়া উচিত।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. তাসনিম জারা রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে আহতদের সেবায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শ্রম নিরাপত্তার মানবিক দিক এবং সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস শ্রম খাত সংস্কারকে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকের কল্যাণে অপরিহার্য উল্লেখ করে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।





