৩ অক্টোবর ২০২৫ – ফিলিস্তিন সময় অনুযায়ী আপডেট
তথ্য এখনো টুকরো টুকরোভাবে আসছে এবং সবসময় যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি যেটুকু শুনছি, সেটুকুই শেয়ার করছি—হালনাগাদ খবরের জন্য অনুগ্রহ করে নজর রাখবেন।
আজ সকালে সমুদ্র শান্ত আছে, তবে এটি অস্থির ও অনিশ্চিত। কতক্ষণ এমন থাকবে, তা বলা মুশকিল। গতরাতে আমাদের জেগে থাকতে হয়েছে, কারণ খবর এসেছে যে Médecins Sans Frontières (MSF)-এর ১৪তম চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ফ্রান্স কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। এখন পর্যন্ত শুধু কথাই দেখা গেছে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নয়।
গতকাল সমুদ্র ভয়াবহ উত্তাল ছিল। আমি কিছুটা অসুস্থ হয়েছিলাম, তবে এখন ভালো আছি। আমরা সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আলাদা রয়েছি। এটি আমাদের আগের পরিকল্পনা ও কৌশলের অংশ ছিল। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে তারা ধরা পড়ায় এখন কেবল আমাদের বড় জাহাজ ও সঙ্গে থাকা আটটি ছোট নৌকা—মোট নয়টি—যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। অন্য নৌকাগুলো কিছুটা আগে বের হয়েছিল, তবে আজ আমরা তাদের পেছনে ফেলতে পারব বলে আশা করছি। সে ক্ষেত্রে আমরাই সামনে থেকে গাজামুখী বহরের নেতৃত্ব দেব। এর ঝুঁকি আছে, কিন্তু আমরা সেই ঝুঁকি নিতেই প্রস্তুত ছিলাম।
আমাদের এই জাহাজে রয়েছেন মোট ৯৬ জন। এর মধ্যে ৮২ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সংগঠক; বাকিরা জাহাজের ক্রু। এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নয়—যদিও নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম আমাদের কাছে আছে, যাতে গাজায় গিয়ে স্থানীয়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়। আমরা এসেছি অবৈধ অবরোধ ভাঙতে। এসেছি প্রতিবাদ জানাতে—সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সাধারণ নারী-পুরুষ-শিশু হত্যার বিরুদ্ধে। গাজায় যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রবেশ করতে পারছে না, আমরা চাই সেই মিডিয়া অবরোধও ভাঙতে।
আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাদের শক্তি জোগায়। আমরা হাল ছাড়ব না।
ফিলিস্তিন মুক্ত হবেই।
লেখক শহিদুল আলম
বাংলাদেশী মানবিক কর্মী সাংবাদিক এবং লেখক।





