নিজস্ব প্রতিবেদক │ নিউজ চ্যানেল বিডি │ চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত থাকাকালীন গুলিবর্ষণের ঘটনায় আলোচিত ব্যক্তি সরোয়ার হোসেন ওরফে সরোয়ার নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হলেও বর্তমানে তিনি বিপত মুক্ত আছেন।
—
এরশাদ উল্লাহর শারীরিক অবস্থা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এরশাদ উল্লাহর শরীরে অস্ত্রোপচার চলছে।
চিকিৎসকরা জানান, তিনি হার্টের পেশেন্ট, তাই প্রাথমিকভাবে লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। প্রয়োজনে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, তার লাইফে কোনো ডেঞ্জার নেই।”
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি দ্রুতই আবার প্রচারণায় ফিরবেন।
—
পুলিশের বক্তব্য
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার বলেন,
«“এটি একটি মার্ডার কেস হিসেবে আমরা দেখছি। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যাচ্ছে, মূল টার্গেট ছিলেন সরোয়ার, যে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে।
এরশাদ উল্লাহ সাহেব টার্গেট ছিলেন না; তিনি ভুলক্রমে গুলিবিদ্ধ হন।
আমরা দেখেছি, এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকে। তাদের হাইন্ডআউট থাকে পাহাড়ি অঞ্চলে, যেখানে তারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
এরা দ্রুত এসে ঘটনা ঘটিয়ে আবার সেই এলাকায় পালিয়ে যায়।
তদন্ত চলছে, এবং আমরা ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি, যার মধ্যে হাসান নামে একজন অস্ত্রসহ ধরা পড়েছে।
আমাদের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”»
—
হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া
আহত এরশাদ উল্লাহকে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে যান হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
«“আলহামদুলিল্লাহ, জনাব এরশাদ উল্লাহ সাহেব এখন ভালো আছেন, তার অপারেশন চলছে, ডাক্তাররা বলছেন লাইফে কোনো ডেঞ্জার নাই।
আমরা কোনো অনুমান করছি না। কে বা কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা নিয়ে আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তের ওপর নির্ভর করছি।
এটা খুবই দুঃখজনক ও জটিল (কমপ্লিকেটেড) ইনসিডেন্ট। আমরা চাই না কেউ বিভ্রান্ত হোক।
পুলিশ যখন আমাদের জানাবে, তখন আমরা সবাইকে জানাব।”»
নিহত সরোয়ারের পিতার বক্তব্য
নিহতের পিতা সাংবাদিকদের বলেন,
«“আমার ছেলেকে তিন দিন আগে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল—‘তুমি যা খাওয়ার আছে খেয়ে নাও, অনেক সময় দেওয়া হয়েছে।’
এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু না, এটা শত্রুতার জবাব। আমার ছেলে নামাজ পড়ে ফিরছিল, তখনই তাকে গুলি করা হয়।
প্রায় ১০–১২ জন একসঙ্গে গুলি চালিয়েছে। এরশাদ সাহেব তখন পাশে ছিলেন, তার গাড়িতেও গুলি লাগে।
আমার ছেলে গরু-ছাগল না, মানুষ। আমি শুধু একটা জিনিস চাই—সুষ্ঠু বিচার।
এই হত্যার জন্য আমি দায়ী করছি সাজ্জাদের সহযোগী বুড়িকে, যারা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তারা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে
চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র বিএনপি নেতার মন্তব্য
«“এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এরশাদ উল্লাহ সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে।
সরোয়ার হত্যাকাণ্ড এবং প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়া—এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ নয়।
আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রার্থী বা সাধারণ মানুষ এভাবে হামলার শিকার না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।”»





